Home / Golpo-Kotha / আমরা পাঁচ বোন ও আমি

আমরা পাঁচ বোন ও আমি

আমরা পাঁচ বোন ও আমি, বাবার একটা ভিটে আর এক টুকরা জমি ছিলো। সেই জমিতে আমাদের পরিবারের আটজন মানুষের তিনমাসের খাবার জুটতো। বছরের বাকি নয়টা মাস আমাদের তিনবেলা খাবারের জন্য বাবা রাতদিন পরের বাড়িতে কামলা খাটতেন। অভাব কি জিনিস সেই হাফপ্যান্ট পরার বয়স থেকে খুব ভালোভাবেই জানতাম। এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে, মা একটা ডিমের ভিতর ভাত দিয়ে সেই ডিমকে বড় করতেন।তারপর সেই ডিমকে ছয়ভাগ করে আমাদের ছয় ভাইবোনকে দিতেন। সাথে থাকতো।

বাজারের সস্তা দামের খেসারী ডাল। আমার বোনগুলো নীরবে খেয়ে যেত। শুধু আমার ঔটুকু ডিমে হতোনা, প্রতি বেলাই কোনো না কোনো বোন বলতো, ‘আমি ডিম খাবো না, আরিফকে দিয়ে দাও।’ চোখের সামনে বড় হওয়া বোনদের মলিন কাপড়ে অভাবের নানাবিধ রুপ দেখতে পেতাম। বোনেরা আমার চেয়ে মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও অভাবের কারনে প্রাইমারীতেই পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেল। শুধু আমার পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার নেওয়ার জন্য বড় বোন মায়ের সাথে।

প্রায় সংগ্রাম শুরু করে এবং সফলও হয়। যেদিন প্রাইমারীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলাম সেদিন থেকেই মা, বোনরা আমায় নিয়ে একটু একটু করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো। আশেপাশের মানুষের প্রশংসা আমাকেও সেই স্বপ্নে আরো মনোযোগী করে তুললো। সেই থেকে আমার একাডেমিক সাফল্যে সবাই খুশী হলেও একজন থাকতেন ভাবলেশহীন, তিনি হলেন আমার বাবা। আমার যতটুকু মনে পড়ে বাবা আমার সাথে কথা বলতেন খুবই কম এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে তা।

একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলো। দেখতে দেখতে মেডিকেল এডমিশনের সময় চলে আসলো। ফর্মফিলাপ করে দিলেন এক মামা, প্রিপারেশন বলতে বোনদের মাটির ব্যাংকের টাকায় কিনা রয়েল গাইড আর দুই বছরের একাডেমিক নলেজ। মজার ব্যাপার হলো মেডিকেল পরীক্ষায় যে সাধারন জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসে তা আমি জানতামই না। জেনেছি পরীক্ষায় যাওয়ার মুহুর্তে বন্ধুর কাছ থেকে। আমাদের মাটির ঘরে ছিল পাশাপাশি দুটি রুম, রুমদুুটির মধ্যখানে ছিল একটা মাটির দেয়াল।

About admin

Check Also

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো,নিচে হৈ-হুল্লোড় শুনো এই জেনিয়া লাইনটা একটু কাটো তো নিচে কি যেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *