Home / Golpo-Kotha / ঢাকা শহরে মেডিকেল স্টুডেন্টদের জন্য চলা কঠিন না

ঢাকা শহরে মেডিকেল স্টুডেন্টদের জন্য চলা কঠিন না

ঢাকা শহরে মেডিকেল স্টুডেন্টদের জন্য চলা কঠিন না, টিউশনির বাজার ভালো। এক বছরের মধ্যে বাবার জমিটি ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। ছুটিতে বাড়িতে আসতে মা বোনদের জন্য এটাসেটা নিয়ে আসতাম, এগুলোই ছিল আমাদেরর জীবনের সবচেয়ে দামী আনন্দের উপলক্ষ্য। জীবন ভালোই চলছিলো। দেখতে দেখতে শেষ বর্ষে চলে এলাম। একদিন মেডিসিন ওয়ার্ডে স্যার এনজাইনা আর এমআইয়ের মধ্যে পার্থক্য ধরেছিলেন, পারিনি।

স্যার খুব লজ্জা দিয়েছিলেন। দুপুরের দিকে পার্থক্যটি দেখছিলাম। হঠাৎ বড় বোনের ফোন, “বাবার বুকে খুব ব্যাথা হচ্ছে, আমরা সদরে নিয়ে যাচ্ছি। তোকে খুব দেখতে চাচ্ছেন, তাড়াতাড়ি চলে আয়।” বোনের ফোন রেখেই রওনা দিলাম হাসপাতালের দিকে। কেন জানি পথের মধ্যে এমআইয়ের তথ্যগুলো চোখের সামনে খুব ভাসছিলো। হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার পাহাড়সম ব্যক্তিত্বসম্পন্ন বাবা দাঁতে দাঁত চেপে ব্যাথা সহ্য করে আছেন।

আমাকে দেখেই বললেন, “আরিফ আসছিস তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম বাবা। আমার কাছে একটু আয়।” কানের কাছে মুখ নিয়ে বাবা আমার হাতটি ধরে বলেছিলেন, ‘তোর বোনগুলোকে একটু দেখে রাখিস বাবা।’ বোনগুলোকে বাবা কাছে নিয়ে শুধু এটুকই বললেন, ‘তোরা কাঁদছিস কেন? তোদের জন্য ডাক্তার একটা ভাই রেখে যাচ্ছি।’ ঘন্টাখানেকের মধ্যে আমাদের বাবা পৃথিবী থেকে চলে গেলেন। বাবা চলে যাওয়ার কয়েকদিন পরই পৃথিবীর কঠিনতম বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম আমি।

আত্নীয়স্বজন, পাড়াপড়শি সবাই আকারে ইঙ্গিতে বুঝাতে চাইলেন যে আমার বোনরা বুড়ো হয়ে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়া দরকার। আমি তখন মাত্র এমবিবিএস পাশ করেছি। চোখে ঝাপসা দেখছি। বোনদের বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রচুর টাকা দরকার। প্রায় রাতে ঘুম ভাঙ্গত বাবার শেষ কথাটি স্বপ্নে দেখে, ‘বোনদের দেখে রাখিস বাবা।’

About admin

Check Also

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো,নিচে হৈ-হুল্লোড় শুনো এই জেনিয়া লাইনটা একটু কাটো তো নিচে কি যেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *