Home / Golpo-Kotha / বাবা ছাড়া পরিবারের সবার হাসিটা বেশিদিন

বাবা ছাড়া পরিবারের সবার হাসিটা বেশিদিন

বাবা ছাড়া পরিবারের সবার হাসিটা বেশিদিন, স্থায়ী হয়নি যখন জানা গেল মেডিকেলে ভর্তি ও বই কিনতে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকার মত লাগে। মা তো রুটিন করে সকাল-বিকাল আত্নীয়স্বজনদের বাড়ি টাকার জন্য ধরনা দিতে লাগলেন। পাড়াপড়শিরা মাকে চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিতে লাগলো। গ্রামের শিক্ষিত লোকজন আমার চান্স পাওয়া আর অভাবের বিষয়টি জাতীয় পত্রিকায় দেয়ার তোড়জোড় শুরু করলেন।

শুধু বাবা ছিলেন নীরব। এদিকে আমার ভর্তির ডেট চলে আসায় মা রাতে বাবাকে এ বিষয়ে বললে আমার পাহাড়সম ব্যক্তিত্বের অধিকারী বাবা বললেন, “শোনো আরিফের মা, ছেলে আমার কারো কাছে ভিক্ষা বা নত হয়ে ডাক্তার হউক তা আমি চাইনা। আমার ছেলে এই গ্রামের কাছে গরিবের ছেলে, আমি এই গ্রামের কাছে গরিব বাবা, পত্রিকায় এসব প্রকাশ করে আমি দেশের কাছে অভাবী বাবা আর আমার ছেলেকে দেশের কাছে গরিবের সন্তান হিসেবে প্রকাশ করতে চাই না।

আমার ছেলের বিষয় আমিই দেখবো।” যেদিন মেডিকেলে ভর্তি হতে যাবো তার আগের দিন বাবা শুধু আমাকে বলেছিলেন, ‘তৈরি থেকো তোমাকে সকালে বের হতে হবে৷’ সকালে তৈরি হয়ে বাবার কাছে বিদায় নিতে গেলে বাবা আমার হাতে সাদা প্যাকেটে মোড়ানো একটা বান্ডেল দিতে দিতে বললেন, ‘আরিফ, এখানে চার লাখ সত্তর হাজার টাকা আছে। পুরো পাঁচ বছরে আরও কিছু টাকা লাগবে তোমার। এটা শেষ হয়ে গেলে জানাবে আমি ব্যবস্থা করবো।’

আমি বাবার দিকে মুখ হা করে তাকিয়েই ছিলাম। শুধু মনে পড়ে ঐদিন বাবার ধমকে গাড়িতে উঠছিলাম। মেডিকেলে এসে বুঝতে পারলাম আমিই একমাত্র ছেলে যার বাবা মেডিকেল লাইফের শুরুতে বিশ্বাসের সাথে হাতে তুলে দিয়েছেন চার লাখ সত্তর হাজার টাকা। একমাস পর ছুটিতে এসে মায়ের কাছে জানতে পারলাম বাবা আমাদের একমাত্র ভাতের জমিটি বিক্রি করে টাকাটা আমাকে দিয়েছিলেন। ঢাকা শহরে মেডিকেল স্টুডেন্টদের জন্য চলা কঠিন না, টিউশনির বাজার ভালো।

About admin

Check Also

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো,নিচে হৈ-হুল্লোড় শুনো এই জেনিয়া লাইনটা একটু কাটো তো নিচে কি যেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *