Home / Golpo-Kotha / চশমা চোখে না দিলে কি আমাকে দেখা

চশমা চোখে না দিলে কি আমাকে দেখা

চশমা চোখে না দিলে কি আমাকে দেখা, যাবে না নাকি। এজন্যই তো হাফ কানা বললাম। ও আমার প্রশ্ন শুনে গোমরা মুখে বলেছিল, “হুম”। আমি তখনই বুঝেছিলাম এ ছেলে হাফ কানা তো বটেই, সাথে কিছুটা বলদ কিছিমেরও। আমার কথাবার্তা, চিন্তাভাবনা কিছুটা অদ্ভূত। এজন্য বিয়ের আগে আম্মু বকত আর বলতো, “তোকে বিয়ে দিলে তো বিয়ের পরের দিনই পিছনের দরজা দিয়ে বের করে দিবে শশুরবাড়ির লোকেরা।” আম্মুর এ কথায় আমি বিন্দুমাত্র।

বিচলিত না হয়ে বলতাম, “তাহলে যে বাসায় পিছনের দরজা নেই, ওরকম বাসায় আমাকে বিয়ে দিয়েন, হিহিহি।” আম্মু তখন রেগে গিয়ে বলত, “তুই আর আমাকে মা বলবি না”। আমি এ কথায় হিহিহি করে হেসে বলতাম, “ওকে আন্টি”। বিছানায় শুয়ে শুয়ে এসবই ভাবছিলাম.. হঠাৎ-ই রুমের লাইট অফ হয়ে গেল। না, নিজে নিজে হয় নি ;শুভ্রই করেছে। আমি মুচকি হেসে ভাবছি – “এখন তো আমার পাশেই শুয়ে ঘুমাতে হবে। কতক্ষন আর দাড়িয়ে থাকবে হুহ”।

বেশ খানিকটা সময় কেটে গেছে। কিন্তু শুভ্রর কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছি না! ব্যাপারটা কি.. অন্ধকারের মধ্যই বিছানা হাতরে ওকে খুঁজছি, কিন্তু পাচ্ছি না তো! আমার বর গেলো কই! এখনো কি বিছানার পাশে দাড়িয়ে আছে নাকি?! বালিশের নিচ থেকে আমার মোবাইলটা বের করে ফ্ল্যাশলাইট অন করলাম। এমা!! এ ছেলে তো সত্যিই বলদ টাইপ। ফ্লোরেই শুয়ে পরেছে, তাও কিছু না পেতেই। –এই যে, উঠুন (আমি) :–.. (কোনো সাড়াশব্দ নেই) –উঠতে বলেছি তো.. এবার উনি উঠলেন।

পাশে খুলে রাখা চশমাটা হাতে নিয়ে চোখে পরলেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, — তুমি হয়তো ভাবছো আমি কেন নিচে শুয়ে পরলাম কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই। আমি মনে করি তুমি এ বাড়িতে ক্ষণিকের অতিথি মাত্র… এটুকু শুনেই আচমকা এক ভয়ের স্রোত খেলে গেল আমার শরীরে। একটা শিরশিরে অনুভূতি হলো নিজের ভিতর.. উনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বলতে লাগলেন, — আমি জানি তুমি এ বিয়েতে খুশি নও। এজন্যই বিয়ে ভাঙতে ওরকম উদ্ভট প্রশ্ন করেছিলে, তাই না??

About admin

Check Also

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো,নিচে হৈ-হুল্লোড় শুনো এই জেনিয়া লাইনটা একটু কাটো তো নিচে কি যেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *