Breaking News
Home / খেলাধূলা / প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রযোজক রাশেদ খানের খোলা চিঠি

প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রযোজক রাশেদ খানের খোলা চিঠি

বিনোদন প্রতিবেদক: জনজীবন থেকে শুরু করে বিনোদন দুনিয়ায় সকলের স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে নোভেল করোনা ভাইরাস। কমে গেছে নির্মাতা শিল্পীদের কাজ। বন্ধ হয়ে গেছে বিনোদনের সকল স্থর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মানবসভ্যতার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে নোভেল করোনা ভাইরাস। হুমকির মুখে মানব জাতির অস্তিত্ব। দেশে দেশে চলছে লকডাউন, ঘরে বন্দি মানুষ। তবুও প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। আক্রান্ত বাড়ছে প্রতি মিনিটে। এদিকে স্বপ্নের ঠিকানা রিসোর্টের কর্ণধার প্রযোজক রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নাকি অনেক বড় নেতা ও অনেক মহান তাকে অনেক সম্মান জানাই সে তার জায়গায় সঠিক আছে। তাকে ছোট করে বলছি না। আমি বিশ্বাস করি তার চেয়ে অনেক বেশি মহান বুদ্ধিমান পরিশ্রমী ত্যাগী নেতা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মা শেখ হাসিনা। কোন দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী এত সময় এত চিন্তা ভাবনা এত পরিশ্রম করে না। নিজে সারা বাংলাদেশের করোনা আক্রান্ত রোগী, ডাক্তার, নার্স, পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, র্যাব সহ সমস্ত বাহিনীর সমস্ত প্রশাসনের দিক নির্দেশনা দেননি। তিনি একা কত করবেন। সে ত্রাণ দিয়েছে তবে জনগণ তা পায়নি। পৃথিবীর কোন দেশে এই ক্রান্তিলগ্নে এত চাল, তেল চোর ধরা পড়েনি। শেখ হাসিনার মতো পৃথিবীর কোন দেশে এত পরিমান ত্রাণ কেউ দেয়নি। অথচ তার সুষম বন্টন হচ্ছে না।

বাংলাদেশের জনগণ খেটে খাওয়া মানুষ যারা মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত সঠিকভাবে তা পায়নি। বাংলাদেশের এ ক্রান্তিলগ্নে আপনি যে উদার মৌনতা দেখিয়েছেন আমার বিশ্বাস আর কেউ দেখাতে পারবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের মা। আপনি আমাদের ক্ষমা করবেন আপনার কথা আমরা রাখতে পারিনি। কথায় আছে অভাবে স্বভাব নষ্ট। তাই আমরা আপনার বারণ করা সত্ত্বেও বারবার লকডাউন অমান্য করেছি। আমরা চাল, তেল চুরি করছি। গরীবের হক মারতে দেখেছি। ত্রাণ দেয়ার নামে ফটোসেশন হচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় ধনী মানুষ কে এই বিপদের দিনে ঘরের ভিতরে নিশ্চুপ বসে থাকতেও দেখেছি। আবার এও দেখেছি একজন ভিক্ষুক তার ভিক্ষা করা সারা জীবনের সঞ্চয় মানুষকে সহযোগিতার জন্য দিয়েছেন। এ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।

একজন কৃষক তার সমস্ত ফসল দিয়েছেন। সবজি চাষী সবজি দিয়েছে। এমন অনেক উদাহরণ আছে। দেশের ডাক্তার, পুলিশ, সেনাবাহিনী, সাংবাদিকরা নিজ জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য কাজ করছেন। বাংলাদেশে অনেক মেয়র আছেন তবে হাতেগোনা কয়েক জন মেয়র মাঠে নেমে কাজ করছেন। বাংলাদেশের এত এমপি, মেয়র, শিল্পপতি, কোটিপতি, ব্যবসায়ী নেতা আজ তারা কোথায়? বাংলাদেশের ক্লান্তিলগ্নে আমরা বাংলাদেশের জনগণ তাদের কে আমাদের পাশে দেখতে পাচ্ছি না। তাদের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। আজকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খুলে দেওয়া হয়েছে। দেশের জনগণ মনে করতেছে আমরা আরো বড় বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন আপনার পাশে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ আছে আপনি সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়ে আমাদেরকে বাঁচাবেন।

প্রথম যখন ইতালি থেকে কিছু লোক আসলো এবং বাংলাদেশের সিস্টেমে নিয়ে অনেক গালিগালাজ করলো আজ তারা কোথায়? হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে এর দায়ভার কে নিবে? আমরা বাংলাদেশের জনগণ জানতে চাই। আমি স্যালুট জানাই সেই সব ভাই বোনদের কে যারা বাংলাদেশের এই দুর্দিনে মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যারা মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যারা সঠিকভাবে মানুষকে খাদ্য সামগ্রী সহযোগিতা দিচ্ছেন আমি মনে করি বাংলাদেশের এই ক্লান্তিলগ্নে তারা বীর যোদ্ধা।

এই ভয়াল করোনা ভাইরাস থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের লকডাউন করে রাখতে হলে তাদেরকে এক মাসের বেতন দিয়ে দিলে তারা আর ঘর থেকে বের হবে না। না হলে করোনার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এই এক মাসের বেতন এর মধ্য থেকে ১০ দিনের বেতন সরকার দিবে, দশ দিনের বেতন ফ্যাক্টরির মালিক দিবে আর দশ দিন শ্রমিকরা শুক্রবার জেনারেল ডিউটি করে পরিশোধ করে দিবে। তাহলেই আর কারোই সমস্যা হবে না। এবং ঢাকার শহরের বাড়ির মালিকদের কাছে আকুল আবেদন দেশের দুর্দিনের কথা চিন্তা করে দুই মাসের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করা।

মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যেখানে পেটের আহারে যোগাতে পারে না সেখানে কিভাবে তারা বাড়ি ভাড়া দিবে। এই দিকটা আপনার সুদৃষ্টি কামনা করিতেছি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার কাছে ১৬ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন আপনি এই দুর্যোগ থেকে আমাদের রক্ষা করুণ। ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। পরিশেষে বাংলাদেশের সকল মানুষকে বলবো আপনারা লকডাউন মেনে ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান, এই দেশকে বাঁচান।

 

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *