Breaking News
Home / Golpo-Kotha / আজ প্রথম ক্লাস তাই সকাল সকাল ফ্রেস হয়ে

আজ প্রথম ক্লাস তাই সকাল সকাল ফ্রেস হয়ে

আজ প্রথম ক্লাস তাই সকাল সকাল ফ্রেস হয়ে, সবার সাথে ব্রেক-ফাস্ট করে ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম । শহড়ে আমার মতো একটা গ্রামের ক্ষ্যাত এতিম ছেলে । কখনো কখনো নিজের কাছেই অদ্ভুদ মনে হয় কারণ আমার মতো একটা এতিম ছেলের এমন অবস্থায় অবস্থান করা সত্যি যেন কাল্পনিক মনে হয়। যাই হোক ক্লাসে গেলাম । অনেক নতুন মুখ । প্রথম ক্লাসে স্যার সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো । কিন্তু কোন বন্ধু হলো না। ব্যাপারটা আমার কাছে স্বাভাবিক।

যেই মানুষটার পরিচয় ‘আমি একজন এতিম , যে অন্যের আশ্রয়ে থাকে এবং নিজের কোনো পরিচয় নেই’ সেই মানুষটার সাথে কেই বা বন্ধুত্ব করতে চায় যেখানে অন্যেরা বলছে আমার বাবা ডাক্তার , আমার বাবা অধ্যাপক , আমার বাবা বড় ব্যবসায়ী । হা হা হা নিয়তি । যাক সে কথা.. ক্লাস করে বাইরে এসে বসলাম… মনে করতে লাগলাম সেই দিনগুলি ।তখন আমার বয়স ছিলো ৫ বছর। কতটা ভালো ছিলো সেই দিনগুলো ! মা নিজ হাতে আমায় খাইয়ে দিতো, রাতে আমায় ঘুম পাড়িয়ে দিতো , মায়ের কোলে মাথা রাখে শুয়ে থাকতাম ।

মা আমায় অনেক গল্প শোনাতো । বাবা আর আমি দুজনে মিলে ফুটবল খেলতাম । কিন্তু কপালটা দেখুন নিয়তি সব ছিনিয়ে নিলো আমার কাছ থেকে । বাবা-মার মৃত্যুর পর আমার কাকা আমার বাবার সকল সম্পত্তি নিজের করে নেয়। কাকাকে বলেছিলাম আমাকে তোমার কাছে রেখে দাও আমি অনাথ আশ্রমে থাকতে পারবো না । আমি অনাথ নই , তোমরা আছো আমার ।কিন্তু সেদিন তারা আমার কথাগুলো শোনেনি । খোদার উপর কোনো অভিযোগ নেই আমার । তিনি আমায় ভালো রেখেছেন । হয়তো মা-বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছি কিন্তু তাদের মিস করি নি ।

আমি যখন বালিসে মাথা রাখতাম মনে হতো মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে , আমার কানে মায়ের কন্ঠ ভেসে আসতো যেন মা আমার বসে বসেই গল্প শোনাচ্ছে” মা-বাবার কথা মনে পরতেই নিজের অজান্তে চোখে পানি চলে আসলো । এখনকার সমাজে একটা জিনিস ভালোই লক্ষ করলাম । এখনকার মায়েরা সন্তানদের আর গল্প শোনায় না , খাইয়ে দেয় না , বাবাগুলো সব টাকার পিছনে ছোটে ভাবে না তার পরিবার চায় তার একটু ফোটা সঙ্গ । আর ছেলে-মেয়েগুলো বোঝে না মা-বাবার সঙ্গ ।

এদের দেখে মনে হয় , যদি আমার ও মা-বাবা থাকতো হয়তো আমিও এদের মতোই হয়ে যেতাম । তারা নেই বলেই হয়তো আমি তাদের সঙ্গ মিস করছি । যাইহোক অনেক সময় হয়েগেছে বাড়ী ফিড়ে আসলাম অবশ্যই আমার বাড়ী নয় রাশেদ অাঙ্কেলের বাড়ী যার ছাদের নিচে খোদা আমার মাথা রাখার জায়গা করে দিয়েছে । আজ দুপুরে খেতে ইচ্ছা করলো না । আমি আমার রুমে চলে গেলাম । ফ্রেস হয়ে বই নিয়ে বসে পরলাম । আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হলো এই বইগুলোই । এরা কখনো আমার সঙ্গ ছাড়েনি । রাতে নিলিমা আমায় খাবার জন্য ডাকলো ।

আমি জানি নিলিমা ইচ্ছা করে আমায় ডাকে না আঙ্কেলের আদেশের ফলে অনিচ্ছা সত্যেও আমায় ডাকতে হয়।খাবার টেবিলে চলে গেলাম । > বাবা মাসুদ ! তোমার জন্য দুটো নিউশনির ব্যবস্থা করেছি । পাশের ২২ নাম্বার বাড়ীতে একটা ছেলে আছে ইন্টার 1st year এর খুব ভালো ছাত্র তুমি just ওকে একটু গাইড করবে ।(আঙ্কেল) > জ্বি আচ্ছা । আর আরেক জন ? > আরেক জন হচ্ছে আমাদের নিলিমাকে ।(আঙ্কেল) > কি নিলিমাকে ! কিন্তু আঙ্কেল নিলিমাকে তো আপনি নিজেই আমার থেকে ভালো গাইড করতে পারবেন । আর নিলিমার কোনো জায়গায় সমস্যা হলে এমনিও আমার কাছ থেকে দেখে নিতে পারবে তার জন্য ওকে আমার কাছে টিউশনি দেওয়া লাগবে কেন ?

About admin

Check Also

আমি কি বলেছি আমি সাকিবকে বিয়ে করবো

আমি কি বলেছি আমি সাকিবকে বিয়ে করবো? -মানে! সাকিবা ভাইয়ের সাথে প্রেম করিস আর বিয়ে …

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো,নিচে হৈ-হুল্লোড় শুনো এই জেনিয়া লাইনটা একটু কাটো তো নিচে কি যেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *