Breaking News
Home / Golpo-Kotha / আমি কি বলেছি আমি সাকিবকে বিয়ে করবো

আমি কি বলেছি আমি সাকিবকে বিয়ে করবো

আমি কি বলেছি আমি সাকিবকে বিয়ে করবো? -মানে! সাকিবা ভাইয়ের সাথে প্রেম করিস আর বিয়ে করবি না? -উহু। -কিছুক্ষন আগেও তো বললি সাকিব আমার জান, সাকিব আমার প্রাণ, এখন হঠাৎ কি হলো? -তোর কথাটা মনে লাগছে। -কোন কথা? -এই যে আমি অনেক ভালো ফ্যামিলি ডিজার্ভ করি, যেমন জজ ব্যারিস্টার -তুই না এক ঘন্টা আগেও সাকিব ভাইয়ের জন্য পাগল ছিলি? আমাকে না বললি আমার সাথে তোর ডিভোর্স হলে সাকিব ভাইকে বিয়ে করবি?

সেটা ছিলো, কিন্তু মন এখন পালটে গিয়েছে। -হায়রে মেয়ে মানুষ, এক ঘন্টার মাঝে এতো পরিবর্তন! একটা মানুষকে এভাবে ঠকায়ে দিলি? -হাহ হা! এটা হলো দা পাওয়ার অব আনিকা আমি বেকুবের মতো আনিকার দিক তাকিয়ে থাকলাম। একটা মানুষ কিভাবে এতোটা পরিবর্তন হতে পারে এক মুহূর্তে! হঠাত করে আমার আর আনিকার ডাক পড়লো, -কি আম্মু? -তোকে আর আনিকাকে ভেতরে ডাকছে। -কে? আব্বু? -তা আর কে ডাকবে? -আচ্ছা।

আমি আর আনিকা কেবিনে ঢুকলাম, -বাবা? -জ্বী আব্বু? -আমার জীবন হয়তো শেষ হবে একটু পর, তোকে কিছু কথা বলবো আর কিছু দায়িত্ব দিয়ে যাবো। -কি বলবে? -আচ্ছা খালু আপনারা কথা বলেন আমি বাহিরে যাই। -না আনিকা মা, তোমাকেও থাকতে হবে। -হুম আব্বু বলো। -অনিক, আমি জানি তোদের দুজনের বিয়ে সম্পুর্ণ মতের বিরুদ্ধে, কিন্তু কি আর করার বিয়ে তো করে ফেলেছিস। এখন তো ডিভোর্স ছাড়া আলাদা হওয়া যাবে না।

আমাকে একটা ওয়াদা করতে হবে। -কি ওয়াদা আব্বু? -তোরা কখনো আলাদা হবি না। এই কথা শুনার পর আনিকা আর আমি একে অপরের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিললাম। এটা কি বললেন আব্বু! আনিকা আর আমি একসাথে বলে উঠলাম, -নাহ, নাহ, এটা অসম্ভব এটা বলে আমি রুম থেকে বের হয়ে গেলাম, আমাকে দেখে আনিকাও বেরিয়ে এলো। উপরওয়ালাই জানেন ভেতরে কি হচ্ছে! । আব্বা সে যাত্রায় বেঁচে গেলেন। আমাদের আর ওয়াদা রাখতে হলো না। আমি আর আনিকা ডিভোর্স এর জন্য এপ্লাই করে দিলাম।

আহা, আমার জীবন! আঠারো বছরে বিয়ে করে আঠারো বছর বয়সেই ডিভোর্স। আমার মতো লাকি আর কয় জন আছে? লাকি আর কি? আমাদের এই প্রেক্ষাপটে তো মেয়েরাই আঠারোতে বিয়ে করে না, ছেলেরা তো বাদই দিলাম। ইদানিং আব্বু আম্মু শ্বশুর শ্বাশুড়ি আমাকে খুব যত্নে রাখছে। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, কেনো এতো আদরে রাখছেন। বিকেল বেলা আব্বু এসে বললেন, -বাবা। -জ্বী আব্বু? -আমার একটা কথা রাখবি? -নাহ! কথা রাখার কোনো মানেই নেই। -আচ্ছা এই কথাটা শোন না। -না না, তোমার কথা শোনা যাবে না। -বৌমা তুমিও বসো তো।

আনিকা কেনো বসবে? তুমি যাও আমার রুম থেকে, আর আমাকে পড়তে দাও, তিন মাস পর এইচএসসি পরীক্ষা। -আগে শোন, তারপর পড়বি। -আচ্ছা বলো। আনিকাও সম্মতি দিলো। -তোরা দুইজন দশ দিন একসাথে থাকবি। আমি আর তোর মা যেভাবে থাকি। শুধু.. -নাহ নাহ! আনিকা আর আমি একসাথে না বলে উঠলাম। -আহহা, আগে আমার কথা শেষ করতে তো দে। -নাহ, আপনি যে কথা বলবেন তা আমি সহ্য করবো না। -আহহা, মা, কথাটা শোন, শুনে তারপর বলিস কথা রাখবি নাকি রাখবি না।

আনিকা আর আমি দুজন দুজনের দিকে তাকালাম, তারপর দুজনেই আব্বুকে বিলার জন্য সম্মতি দিলাম। -আব্বু শোন, তোরা শুধুমাত্র দশ দিন ভালো মতো স্বামী স্ত্রীর মতো থাকবি। তারপর আমি নিজে তোদের ডিভোর্স এর ব্যবস্থা করে দিবো। আবার আনিকার দিকে তাকালাম, আনিকা ইশারায় সম্মতি দিলো। তা দেখে আমিও রাজি হলাম। হ্যাঁ বলার সাথে সাথেই আব্বু খুশিতে আটখানা হয়ে গেলেন। -আলহামদুলিল্লাহ! আমি আর আনিকা দুজন চোখাচোখি করে বুঝলাম এই দশদিন বিপদ আছে। সাবধানে থাকতে হবে।

About admin

Check Also

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো

জেনিয়ার সাথে কথা বলছিলো,নিচে হৈ-হুল্লোড় শুনো এই জেনিয়া লাইনটা একটু কাটো তো নিচে কি যেন …

তুলি বিয়ের কার্ড দেখে ওর মনটা খুশিতে ভর যায়

তুলি বিয়ের কার্ড দেখে ওর মনটা খুশিতে ভর যায়,কারন সে মনে করেছে ওর কলিজার টুকরা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *